counter ‘সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেককে দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তি কার্যকর করতে হবে’

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেককে দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তি কার্যকর করতে হবে’

  • 10
    Shares

ডেস্ক নিউজ : ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেছেন, ১৫ আগস্ট, ১৭ আগস্ট ও ২১ আগস্ট একই সূত্রে গাঁথা। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী বিএনপি-জামায়াত চক্র পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এই দিনগুলোতে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আদালতের বিচারে তা প্রমাণিত হয়েছে। ২১ আগস্ট হত্যা মামলায় জিয়া-খালেদার পুত্র তারেক রহমান সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বিদেশে পলাতক আছে। তাকে ফিরিয়ে দ্রুত ওই সাজা কার্যকর করতে হবে।

এক সাক্ষাৎকারে এই আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার সঙ্গে জিয়াউর রহমানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ রয়েছে। এরপর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট একইসঙ্গে দেশের ৬৪টি জেলা, ৪৩৪টি স্থানে বোমা হামলা চালিয়ে বিচারক, আইনজীবী, পুলিশ হত্যা। এর আগে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যা করা হয়। যে ঘটনার সঙ্গে খালেদা জিয়ার মদদ রয়েছে। খালেদাপুত্র তারেক ও সেই সময়ের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ বিএনপি নেতারা জড়িত।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, আদালতের রায় কার্যকর করা সরকারের দায়িত্ব। আদালতের রায়ে সাজা হলেও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মূল পরিকল্পনাকারী তারেক রহমান বিদেশে পলাতক। তাকে ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রয়েছেন। এ ব্যাপারে তিনি নিশ্চয়ই কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন। দ্রুতই তারেক রহমানের মতো খুনিরা আইনের হাতে সোপর্দ হবে বলে দেশবাসী আশা করে। জাতির জনকের হত্যাকারী পলাতক আসামীদের সাজাও দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানিয়ে বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭১ সালের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত এদেশে গণতন্ত্র ছিল না। ১৯৪৭ সাল থেকে যারা গণতন্ত্র চায়নি, তারাই ১৫ আগস্ট সৃষ্টি করেছে। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করতে ১৫ আগস্ট ছিল একটি গভীর ষড়যন্ত্র।

তিনি বলেন, কিছু বিপথগামী সেনা সদস্য ১৫ আগস্ট সৃষ্টি করেছে। কিন্তু এই সেনা সদস্য কারা? তারা কিন্তু বাংলাদেশের সেনা সদস্য নন। তারা পাকিস্তানি সেনা সদস্য। যারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন তাদেরকে কখনই বাংলাদেশের সেনা সদস্য বলা যায় না। বাংলাদেশের সেনাবাহিনী কিন্তু পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মতো নয়। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে দেশাত্মবোধের প্রশিক্ষণ দেওয়া আছে। তিনি আরো বলেন, গণতন্ত্রকে বাংলার মাটি থেকে নির্বাসিত করার জন্য এবং দেশের অস্তিত্ব বিলুপ্ত করার জন্যই ১৫ আগস্ট সৃষ্টি করা হয়েছিলো। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়েছিল। কিন্তু কোনোটাই প্রতিষ্ঠা পায়নি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, বঙ্গবন্ধু একটি বিশেষ সময়ের জন্য (ফর এ সার্টেন পিরিয়ড) বাকশাল গঠন করেছিলেন। বিভিন্ন ধরনের অরাজকতা যেমন পাটের গুদাম পুড়িয়ে দেওয়া, মাঠে এমপিদের গুলি করে হত্যা- এসব বন্ধ করতে সকল রাজনৈতিক দলকে একত্রিত করে একটা প্ল্যাটফরমে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছিলেন। সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে বাকশাল গঠন করা হয়। দেশটাকে বাঁচাতে ও যেন অরাজকতায় নিমজ্জিত না হয়, সেজন্য তিনি সেদিন বাকশাল গঠন করেছিলেন।

নিজে গাইবান্ধা জেলা বাকশালের জয়েন্ট সেক্রেটারি ছিলেন উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, তরুণ নেতা হিসেবে তখন আমরা তাঁর উদ্দেশ্য কিছুটা উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম। বঙ্গবন্ধু সবুজ বিপ্লবের কাজ শুরু করেছিলেন। যখন জিনিসপত্রের দাম কমতে শুরু করে ঠিক তখনই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। তার মানে ষড়যন্ত্রকারীরা চায়নি এদেশে গণতন্ত্র কায়েম হোক। বঙ্গবন্ধু যদি বেঁচে থাকতেন তাহলে আজ আমরা অন্য এক বাংলাদেশ দেখতাম। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে আমাদের অবস্থান থাকতো অনন্য এক উচ্চতায়। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার চেষ্টায় আছেন। তাকেও বারবার হত্যার ষড়যন্ত্র হয়েছে। সেই ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় করে তিনি দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিচ্ছেন। এক্ষেত্রে দেশবাসীকে শেখ হাসিনার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার অনুরোধ জানান সন্মুখ সারির মুক্তিযোদ্ধা ফজলে রাব্বী।

এই বিভাগের আরো খবর