counter সংক্রমণের ১০০ দিনে দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষে বাংলাদেশ

বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২০ ইং, ২৫শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সংক্রমণের ১০০ দিনে দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষে বাংলাদেশ

  • 44
    Shares

ডেস্ক নিউজ : দেশে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার ১০০তম দিন পূর্ণ হচ্ছে আজ। এখন পর্যন্ত সংক্রমণের ধারা ঊর্ধ্বমুখী। এমনকি, এ সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর থেকেও এগিয়ে বাংলাদেশ।

তবে কবে এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি মিলবে তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। যদিও এর আগে সরকারের কয়েকজন জনসাস্থ্যবিদ বলেছিলেন, ‘জুনের শেষ সপ্তাহে করোনা পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসবে। আর জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে বাংলাদেশ।’

কিন্তু, বাস্তবতা বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। উল্টো পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত আরও ভয়াবহতার দিকে যাচ্ছে। ফলে অনিশ্চিত সেই স্বাভাবিক জীবনে ফেরা। অবশ্য তাদের বক্তব্য ছিল তৎকালের পরিস্থিতি অনুযায়ী।

তাদের মতামতের পরই টানা ৬০ দিন সাধারণ ছুটির পর খুলে দেয়া হয় পোশাক কারখানা, শিথিল করা হয় লকডাউন। আর এতে করেই হু হু বিস্তার ঘটে করোনার। যা একশ তম দিনে এসে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ সংক্রমণে নিয়ে যায় বাংলাদেশকে।

গত ৮ মার্চ দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পরের ৯৯ দিনে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৭ হাজার ৫২০ জন। অথচ, প্রতিবেশী ভারতে ১০০ তম দিনে ভাইরাসটির শিকার হয় ৫৯ হাজার ৬৬২ জন। আর পাকিস্তানে আক্রান্ত হয়েছিল ৮৫ হাজার ২৬৪ জন।

তথ্য উপাত্ত বলছে, সংক্রমণের ১০০ দিনে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে বাংলাদেশে। যার শিকার মন্ত্রী, এমপি, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র‌্যাব থেকে শুরু করে স্বয়ং চিকিৎসকরাও।

ইতিমধ্যে করোনার শিকার দেশে এক প্রতিমন্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। সবশেষ আজ ১০০তম দিনে সিলেটের সাবেক বদর উদ্দিন আহমদ কামরান মারা যান। আর মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রীসহ অনেক উচ্চশ্রেণির মানুষ এখনও ভুগেছেন ভাইরাসটিতে।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষের দিকে চীনের উহানে উৎপত্তি হওয়া ভাইরাসটি মাত্র দুই মাসে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় চীন। তবে, বাংলাদেশসহ ভারত, পাকিস্তানের মতো দেশগুলোতে কবে নাগাদ সংক্রমণ নিম্নমুখী হবে তা বলা যাচ্ছে না।

এখন পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা ভারতে। সংক্রমণের ১৩৬ দিনে যেখানে ৩ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি মানুষ ভাইরাসটির ভু্ক্তভোগী। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছে সাড়ে ৯ হাজারের বেশি মানুষ। আক্রান্তের তালিকায় শীর্ষ চারে দেশটি। চার দফা লকডাউন দিয়েও বাগে আনা যাচ্ছে সেখানে করোনা।

অপরদিকে, পাকিস্তনে ১ লাখ ৩৯ হাজারের বেশি মানুষের দেহে মিলেছে করোনার সংক্রমণ। যেখানে মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৬৩২ জন। সংক্রমণের তালিকায় ১৫তম দেশটি।

আর বাংলাদেশে গতকাল রোববার পর্যন্ত করোনার শিকার ৮৭ হাজার ৫২০ জন। এর মধ্যে প্রাণঘানি ঘটেছে ১ হাজার ১৭১ জনের। সুস্থ হয়েছেন ১৮ হাজার ৭৩০ জন। সংক্রমণের তালিকায় ১৮-তে আমাদের দেশ।

এর মধ্যে গত ছয়দিনে গড়ে তিন হাজারের বেশি জনের দেহে শনাক্ত হয়েছে করোনা। বিশ্বের যেসব দেশ সংক্রমণে ঊর্ধ্বমুখী তার একটি এখন বাংলাদেশ। ফলে, অবস্থা আরও সকংটের দিকেই যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই বিভাগের আরো খবর