counter শিল্পের চাহিদামাফিক শিক্ষা কারিকুলাম চায় ডিসিসিআই

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিল্পের চাহিদামাফিক শিক্ষা কারিকুলাম চায় ডিসিসিআই

  • 3
    Shares

ডেস্ক নিউজ : করোনা মহামারীর কারণে সারাবিশ্বে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পুঁজির স্বল্পতা ও বাজার সংকোচনের কারণে রফতানিমুখী শিল্প, এসএমই খাত এবং অনানুষ্ঠানিক খাতে বেকারত্বের সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় পর্যাপ্ত শ্রমশক্তি থাকা সত্ত্বেও শিল্পে দক্ষ শ্রমিকের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। বিদেশি শ্রমিক দিয়ে ঘাটতি পূরণ করতে হয়। তাই ভবিষ্যতে শিল্পের চাহিদামাফিক শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন করা দরকার।

শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘কোভিড ১৯ পরবর্তী বাংলাদেশের শিল্পখাতের প্রস্তুতি : বিনিয়োগ ও দক্ষতা’ বিষয়ক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বিশেষ অতিথি এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. ইঞ্জি. শাখাওয়াত আলী সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, প্রতিবছর প্রায় ২২ লক্ষ কর্মী দেশের শ্রমবাজারে আসছে। এর মধ্যে প্রায় ৮ লাখ বিদেশে কাজ করতে যায়। দেশে-বিদেশে এদের কর্মসংস্থান চলমান না রাখতে পারলে দেশের অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে। দেশের শ্রম বাজারের সঙ্গে বেশিরভাগের শিক্ষা কারিকুলামের মিল না থাকায় তাদের অদক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখন সময় এসেছে ভোকেশনাল ও টেকনিক্যাল শিক্ষা ব্যবস্থার উপর আরও বেশি মাত্রায় জোর দেয়ার। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিল্পের চাহিদামাফিক শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন করতে হবে।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, শিল্প খাত চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ মানবসম্পদ না থাকায় প্রতিনিয়ত বিদেশিদের নিয়োগ দানের জন্য বিডার পক্ষ হতে অনুমতি দিতে হয়। এ অবস্থা উত্তরণে শিক্ষা কারিকুলামকে শিল্পমুখী ও যুগোপযোগী করার কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, কোভিড পরবর্তী সময়ে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান চীন হতে কারখানা অন্যত্র স্থানান্তরের পরিকল্পনা করেছে। সে সব প্রতিষ্ঠানের কারখানা বাংলাদেশে স্থানান্তরের লক্ষ্যে বিডা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে সার্বিকভাবে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন করা সম্ভব হলে আরও বেশি হারে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ সম্ভব বলে মত প্রকাশ করেন তিনি। বিএমইটি’র পরিচালক ড. শাখাওয়াত আলী বলেন, দেশে ফেরত আসা দক্ষ প্রবাসীদের কাজের ধরনের ভিত্তিতে একটি ডাটাবেজ করা হবে। তাদের আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে ২০০ কোটি টাকার একটি পুণঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হবে। যেখান থেকে একজন ৫ লাখ টাকা ঋণ সুবিধা পাবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ৫০০ কোটি টাকার প্যাকেজও এর সঙ্গে যুক্ত হবে। অনুষ্ঠানে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন ডিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহীম, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য এমএ রাজ্জাক, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শহীদুল আলম, ডিসিসিআই’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ বাশিরউদ্দিন প্রমুখ।

এই বিভাগের আরো খবর