counter নিউ নর্মাল সিচুয়েশনে ব্যাংকের ভূমিকা

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নিউ নর্মাল সিচুয়েশনে ব্যাংকের ভূমিকা

  • 1
    Share

ডেস্ক নিউজ :  নিউ নর্মাল সিচুয়েশনে ব্যাংকের ভূমিকায় গতিময়তা আনয়ন করা দরকার। এ ব্যাপারে স্বউদ্যোগী হয়ে ব্যাংকগুলোর তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে উচ্চ পর্যায়ে সঞ্চয় বিনিয়োগের মধ্যে ভারসাম্য আনয়ন করা দরকার। পাশাপাশি নন-পারফর্মিং লোন আদায়ে অধিক মনোনিবেশ করা উচিত। তবে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ক্ষুদ্র উৎপাদনকারীরা যাতে ঋণ পায় সে জন্য যে সমস্ত কর্মসূচী রয়েছে বাস্তবে সেগুলো যাতে বাস্তবায়িত হয়, সে ব্যাপারে তদারকি করা দরকার। কেননা দীর্ঘদিন ধরে এসএমই ঋণের ব্যাপারে গবেষণা করতে গিয়ে দেখেছি যে, অনেক ব্যাংকে যথাযথভাবে নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হয় না। বরং দায়সারা গোছের ঋণ এসএমই খাতের মাধ্যমে দেখানো হয়। এর ফলে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে অধিকাংশ ব্যাংক ব্যর্থ হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়।

অথচ একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাংকিং ব্যবস্থার দায়-দায়িত্ব অনেকখানি। আর নিউ নর্মাল সিচুয়েশনে ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনার মান উন্নত হবে না তা কিন্তু সঠিক নয়। কেননা, দেশের প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় যে সমস্ত দুষ্কর্ম বিভিন্ন সময়ে ঘটেছে, সেগুলো কিন্তু প্রচলিত আইনের আওতায় বিচারে আনলে ব্যাংকিং সেক্টর সঠিকমাত্রায় দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে গতিময়তা দিতে পারত। তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে কোলেটার‌্যাল ফ্রি লেন্ডিংয়ের ব্যবস্থা দরকার। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অন্যায়ের দরুণ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় যে সমস্ত সমস্যা তৈরি হয়েছে সেগুলো দেশ ও জাতির উন্নয়নে একটি স্বাভাবিক প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করছে না। আবার কখনও কখনও একজন ঋণ নিয়ে থাকে, তার দায়ভার গিয়ে পড়ে অন্যের ওপর। ইদানীং আবার দেখা যাচ্ছে মিথ্যা অপপ্রচার ঘটে থাকে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি কর্তৃক ইস্যুকৃত একটি পত্রে দেখা যায় যে, প্রফেসর ড. আবুল বারকাত সাহেবের আমলে যে কোম্পানিকে তিনি জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান থাকাকালীন ঋণ দেননি, সেটিও তার নামে দৈনিক প্রথম আলো রিপোর্টে প্রকাশ করেছে। ওই ভুলের সংশোধনী পত্রিকাটিতে বেশ ক’বার অর্থনীতি সমিতি থেকে পাঠানো হলেও তা ছাপায়নি। আসলে কখনও যদি ‘ক’-এর নামে ঋণ বিতরণ করা হয়, পরবর্তীতে ‘খ’-এর নামে কোন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই ঋণ দেখাতে নির্দেশ দিতে পারে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দুটো ডেপুটি গভর্নরের পদ খালি রয়েছে। এগুলোর অন্তত একটিতে একজন বাণিজ্যিক ব্যাংকিংয়ে দক্ষ এবং এমডি হিসেবে সৎভাবে ন্যূনপক্ষে পাঁচ বছর কাজ করেছেন, এমন কাউকে ডেপুটি গবর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়া উচিত।

বাণিজ্যিক ব্যাংকিংয়ে দক্ষ এমন কেউ এখন নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে না থাকায়, দেশ ও দশের বিশেষত সরকারপ্রধান যেভাবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে মহিমান্বিত করতে চাচ্ছেন, তা কিন্তু ব্যাংক দ্বারা বারংবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আজ বাণিজ্যিক ব্যাংকিং এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, প্রচলিত ব্যাংকিংয়ের আইনকানুনের ধার অনেকেই ধারছে না। বরং তদারকি, নিরপেক্ষতা, সাধুতা ও নৈতিকতার অভাবে মানি সেন্ট্রিক সোসাইটিতে ব্যাংকিং খাত মুদ্রানীতিকে সঠিকভাবে প্রায়োগিক কলাকৌশলে ব্যবহার করতে পারছে না। সরকার যে দারিদ্র্য দূরীকরণ করেছে তা কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে অপ্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যমে করেছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে দেখা যাচ্ছে নিউ নর্মাল সিচুয়েশনে দেশের শিল্প, সেবা, কৃষিসহ সব খাতকে উন্নয়নের জন্য সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা স্থাপন করে দেশ ও জাতির উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। বাংলাদেশে চার ধরনের ব্যাংক রয়েছে : রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, বেসরকারী বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিদেশী বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং বিশেষায়িত বাণিজ্যিক ব্যাংক। বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক এদেশে সচরাচর মেয়াদী ঋণ দেয় না। কিবরিয়া সাহেব যখন অর্থমন্ত্রী ছিলেন বিদেশী বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহকে মেয়াদী ঋণ দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন। কিন্তু তারা তো সত্যিকার অর্থে এদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি চায় না। বরং তারা স্বল্পকালীন ঋণ দিয়ে তাদের অর্জিত মুনাফার হার বাড়াতে সব সময় সচেষ্ট থাকে। আর দেশের বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব থেকে সরে গেছে।

জবাবদিহি না থাকার কারণে ব্যাংকিং সেক্টরে গতিময়তার বদলে ইচ্ছাকৃতভাবে ভিন্নমাত্রার ব্যাংকিং ব্যবসা-বাণিজ্য করে যাচ্ছে কৃষি ব্যাংক, উন্নয়ন ব্যাংক এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। যার যার নির্দিষ্ট কাজ সেটি না করে যখন কেউ অন্য ধরনের ব্যাংকিংয়ে নাক গলায় এবং ব্যাংকিং খাতের সুনির্দিষ্ট কর্মকা- না করেও ওই ব্যাংকসমূহের উর্ধতন কর্তৃপক্ষরা নিশ্চিন্তে থাকেন, তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত ছিল তাদের মূল অভীষ্ট কেন তারা পালন করছে না, যাতে করে সরকার প্রধানের ইচ্ছা তৃণমূলের মানুষের জীবন-জীবিকা সুনিশ্চিত করা যায় সেদিকে নজরদারি করা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকির অভাবে বিভিন্ন ব্যাংক তাদের মূল সুনির্দিষ্ট অভীষ্ট সিদ্ধি থেকে সরে এলেও বেশ ভালভাবে অন্য ব্যবসা করছে। বিভিন্ন ব্যাংকের চার্জেস সিডিউল বাংলাদেশ ব্যাংকের যাচাই-বাছাই করা উচিত। এতে করে নির্দিষ্ট উপকারভোগীরা বঞ্চিত হচ্ছে। এই যে বঞ্চনা এটি বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আশানুরূপ সাফল্য দিচ্ছে না। আসলে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থেকে যখন কেউ সরে আসে, তখন দেশের উন্নয়নেও কৃষি খাতে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় যে সাফল্য আসা দরকার সেটি রহিত হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশ উন্নয়ন ব্যাংকের কর্মকা-ের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিল্পের উন্নয়ন করা। তাদের দ্বারা দেশের কাটেজ, মাইক্রো, স্মল এবং মিডিয়াম উদ্যোক্তা শিল্পক্ষেত্রে তৈরি করা উচিত ছিল। তারা কতজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরি করেছে সেটি বিবেচনায় আনা উচিত।

অন্যদিকে প্রবাস ফেরত এদেশীরা যাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায় সে জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকসমূহের গতিময়তা আনা দরকার। অথচ তারা নিউ নর্মাল সিচুয়েশনে বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের জীবনমান সংরক্ষণ ও নতুন ব্যবসা-বাণিজ্য করার জন্য এ পর্যন্ত কোন ধরনের বিশেষ উদ্যোগ নিতে পারেনি। এজেন্ট ব্যাংকিং যেন দরিদ্র স্থান থেকে ধনী স্থানে পুঁজি পাচারের হাতিয়ার না হয়, সে জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। আমাদের দেশে এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে ঠেলা দিলেও নড়েচড়ে না। বরং এক ধরনের জড় পদার্থে পরিণত হয়েছে যেন। যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় ব্যাংক ব্যবস্থায় অর্থনৈতিক উন্নয়নকে গতিময়তা দেবে সেখানে কুম্ভকর্ণের মতো ব্যাংকিং সেক্টর কাজ করছে। মনে হয় সরকারের সাধু ইচ্ছা বাস্তবায়নে তারা আদৌ আন্তরিক নয়, বরং তারা দায়সারা গোছের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে চলেছে। এ করোনাকালে বেশ কিছু ব্যাংকারকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, যা মোটেই ভাল নয়।

আজকে দেশের যে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে ব্যাংকিং কর্মকাণ্ডের চেয়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো অনেক বেশি জোরালো ভূমিকা পালন করেছে। ব্যাংক চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুফল নিতে পারে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহার করতে পারে। ব্যাংকিং সেক্টরে যে অর্থের লেনদেন হয় তা জনগণের টাকা। এই টাকার সদ্ব্যবহার করে জনকল্যাণে ব্যবহার করা দরকার। এদিকে বেসরকারী ব্যাংকসমূহের মধ্যে আইসিটি ইসলামিক ব্যাংকের মোট ঋণের প্রায় ৯০%, পদ্মা ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫% শ্রেণীবদ্ধ ঋণ। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মধ্যে বেসিক ব্যাংকের ক্ষেত্রে ৫২%, রাকাবের ক্ষেত্রে ৩০% এবং বিদেশি ব্যাংকের মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের প্রায় ৯৮% জুন ২০২০ পর্যন্ত শ্রেণীবদ্ধ ঋণ। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোন সঠিক দিকনির্দেশনা চোখে পড়ে না।

ঋণ অবলোপন করে আর যাই হোক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাশাপাশি ওই বাণিজ্যিক ব্যাংকও সমদোষে দোষী। ফার্মার্স ব্যাংক যেটি এখন পদ্মা ব্যাংক নামে পরিচিত, এটি যেভাবে অন্য ব্যাংকসমূহের অর্থ সাহায্য দিয়ে চলতে শুরু করেছে, সেটির বদলে এটিকে অন্য ব্যাংকের সঙ্গে মার্জার করা গেলে ভাল হতো। যেগুলো দুর্বল ব্যাংক সেগুলো বরং মার্জার করা উচিত। কেননা দেশে বাণজ্যিক ব্যাংকের সংখ্যা অত্যধিক পরিমাণে রয়েছে। বস্তুত ঋণখেলাপীর হার এখন হিসাবে না নেয়ায় আবার ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপীর পরিমাণ বেড়ে যায় কিনা সেটি পর্যবেক্ষণ করা দরকার। সমাজ ব্যবস্থায় দীর্ঘকালীন যে নৈরাজ্য বঙ্গবন্ধু হত্যা পরবর্তী পর্যায়ে শুরু হয়েছিল, তা সমাজে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে।

কৃষি উন্নয়নের জন্য সরকারের বারংবার নির্দেশ দেয়া সত্ত্বেও প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা এ ধরনের ঋণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আবার কৃষিনির্ভর নতুন কোন প্রকল্প/কার্যক্রম গ্রহণে বিশেষায়িত ব্যাংকের ভূমিকা খুবই অপ্রতুল। দুর্ভাগ্য যে, কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য, উদ্যোক্তা তৈরিকরণ, পল্লী উন্নয়ন, নতুন খামারি তৈরি করা এবং কৃষিনির্ভর শিল্প তৈরি করণের জন্য ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক তৈরি করেছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর পরবর্তীতে ধীরে ধীরে যেভাবে সর্বস্তরে দুর্নীতির প্রসার ঘটে, তা ব্যাংকিং সেক্টরকে ক্রমশ এলোমেলো করে দিয়েছে। ব্যাংকিং খাতে যখন কোন ঋণখেলাপীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয় তখন মামলাটি সঠিকভাবে না সাজালে দুর্বল হয়ে পড়ে।

এর ফলে দোষীরা দুর্বল মামলার কারণে যথাযথ শাস্তি পায় না। ঋণ গ্রহীতার বিরুদ্ধে মামলা করার সময় একজন ব্যাংকারকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হয়। যারা বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হন তাদের পূর্ব চাকরির ইতিহাসের পাশাপাশি গোয়েন্দা রিপোর্ট বিবেচনায় নিয়ে সততা ও ন্যায়নিষ্ঠার হিসাব নেয়া দরকার। ঠিক একই রকমভাবে যারা বাংলাদেশ ব্যাংকে নির্বাহী পরিচালক হন তাদেরও চাকরির পূর্ব ইতিহাসের পাশাপাশি গোয়েন্দা রিপোর্ট যথাযথভাবে নেয়া দরকার। এ মুহূর্তে যেহেতু বাংলাদেশ ব্যাংকে কোন দক্ষ অর্থনীতিবিদ নেই সেহেতু দুটো ডেপুটি গবর্নরের খালি পদের আরেকটিতে দক্ষ অর্থনীতিবিদের পদায়ন করা দরকার। মুদ্রানীতিকে সঠিকভাবে কার্যকর করা গেলে মোট দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ নিউ নর্মাল সিচুয়েশনে আশানুরূপ সাফল্য আসবে বলে প্রত্যাশা করা যাচ্ছে।

শিল্প খাতে ঋণ দেয়ার জন্য বিভিন্ন নতুন প্রকল্প নিতে হবে বাংলাদেশ উন্নয়ন ব্যাংককে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে গ্রামকে স্মার্ট শহর বানানোর যে প্রতিশ্রুতি আছে, সেটি বাস্তবায়ন করতে হলে বাংলাদেশ উন্নয়ন ব্যাংককে বহুমুখী শিল্পায়নের ব্যবস্থা করে স্থানীয় পর্যায়ের অর্থনীতিকে সুসংহত করতে হবে। এক্ষেত্রে ভূমিহীন, প্রান্তিক মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার নানামুখী প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। নিউ নর্মাল সিচুয়েশনে শিল্প প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। যারা শহর থেকে গ্রামে যাচ্ছে, কিংবা বিদেশ থেকে ফিরে আসছে- তাদের জন্য স্বল্প সুদের হারে শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করতে হবে।

১৯৯৮ সালে কর্মসংস্থান ব্যাংক যে উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, পরবর্তীতে তারা যথাযথভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেনি। সরকার আমানত ও ঋণের সুদের হার হ্রাস করে ভাল কাজ করেছে। যারা ঋণ নিচ্ছেন তাদের উচিত হবে সময়মতো ঋণ পরিশোধ করা। আমি যখন ব্যাংকার ছিলাম, তখন আমরা কাজের ফাঁকে ফাঁকে কোম্পানির যে লোক আসত তার কাছ থেকে জেনে নিতাম- মালিক ঋণের অর্থের সদ্ব্যবহার করছে কিনা, নতুন কোন প্রকল্পে অর্থ স্থানান্তর করছে কিনা, প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের ঠিক সময় বেতন-ভাতাদি দেয় কিনা, বিদেশ থেকে প্রাপ্ত অর্থ সময়মতো পাচ্ছে কিনা ইত্যাদি। আজকাল কাজের চাপে অনেকেই আলাপ করার সময় পান না। কয়েক ব্যাংকারকে জিজ্ঞেস করলে তারা দোহাই দেন- এত বেশি স্টেটমেন্ট পাঠাতে হয় যে, ইন্টার্নাল কিংবা এক্সটার্নাল সার্কুলার পড়ার সময় পর্যন্ত পান না।

ডিজিটালাইজেশনের কারণে অতিমাত্রায় যান্ত্রিক হওয়ায় ডিসিশন মেকিং প্রসেসে ব্যাংকাররা আর আগের মতো সময় দেয়ার সুযোগ পান না। বস্তুত, ব্যাংকিং সেক্টরকে সরকারের উন্নয়নক্ষেত্র হিসেবে কাজ করতে হলে আন্তরিকতার পরিচয় দিতে হবে। দেশ আজ নিম্নস্তরের থেকে মধ্যম আয়ের রাষ্ট্রে উন্নীত হয়েছে। এর পর উপরস্তরের মধ্যম আয়ের রাষ্ট্রে পরিণত হবে। কিন্তু কোভিড-১৯ এর কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ঘাত-প্রতিঘাত লেগেছে। সমতাভিত্তিক প্রবৃদ্ধি সৃষ্টির জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো হিসেবে ব্যাংকিং সেক্টরকে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়া দরকার।

আবার যারা ঋণ গ্রহীতা তারা যদি সঠিকভাবে এবং সঠিক সময়ে ব্যাংকঋণ পরিশোধ করে, তবে সেটি দেশ এবং জাতির জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। গিনি সহগকে বণ্টন ব্যবস্থাপনায় ব্যাংকিং খাতের উদ্যোগী ভূমিকা রাখা দরকার। এঞ্জেল ইনভেস্টার, সিড মানি এবং স্টার্টআপ ফান্ডিংয়ে দুর্নীতিমুক্তভাবে ব্যাংকঋণ বিতরণ করা দরকার। পাশাপাশি যারা ঋণ গ্রহীতা তাদেরও অবশ্যই সততা, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিতে হবে। নিউ নর্মাল সিচুয়েশনে ব্যাংকিং খাতকে জনকল্যাণ, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং আয়বৈষম্য দূরীকরণে কাজ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং উনষাট টি ব্যাংককে একযোগে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে কিছু বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ঢাকার বাইরে সরিয়ে দিতে হবে।

লেখক : ম্যাক্রো ও ফিন্যান্সিয়াল ইকোনমিস্ট ও আইটি এক্সপার্ট
[email protected]

এই বিভাগের আরো খবর