counter দুর্লভ ফল গৌরনদীর মাটিতে ‘ননি’

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

দুর্লভ ফল গৌরনদীর মাটিতে ‘ননি’

  • 4
    Shares

ডেস্ক নিউজ : ইংরেজিতে বললে সাইট্রিফেলিয়া, আর বাংলায় ননি। দুর্লভ এক ঔষধি ফল। হরেক গুণের ‘রাজা’ ননি ফলের রসে কমে উচ্চ রক্তচাপ, বাড়ে শারীরিক শক্তি, প্রতিরোধ করে প্রদাহ ও হিস্টামিন। ননি ফল খেলে নিয়ন্ত্রণে আসে ডায়াবেটিস, কমে ব্যথা কিংবা জ্বালা। ফলটির জুস নিয়মিত সেবনে দমে যায় ক্যান্সার ও টিউমার। তবে এত উপকারী ফলটি দেশে দুর্লভ। তবে ননি ফল নিয়ে আশাজাগানিয়া খবর এসেছে বরিশালের গৌরনদীর কসবা গ্রাম থেকে। ওই গ্রামের যুবক হাবিব সরদার বাড়ির আঙিনায় ১০ শতক জমিতে গড়েছেন দুর্লভ ঔষধি গাছের বাগান। সেই বাগানে এবারই প্রথম মিলেছে সাইট্রিফেলিয়া বা ননি ফলের দেখা। প্রকৃতির এই ‘সুপার ফুড’ মানবদেহের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। এরই মধ্যে ফলটির বাণিজ্যিক চাষের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন হাবিব। বিশেষজ্ঞদের মতে, যে এলাকায় ননি ফলের বাগান থাকে, সেখানে সংক্রমণ ছড়ায় না কোনো রোগ।

সাইট্রিফেলিয়ার বৈজ্ঞানিক নাম Morinda citrifolia. বাংলাদেশ ও ভারতে এই ফলের নাম ‘ননি’। এতে আছে ভিটামিন এ, সি, ই, বি, বি-২, বি-৬, বি-১২, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফলিক এসিড, প্যান্টোথেনিক এসিড, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম, জিংক, কপার, অন্যান্য মিনারেলসহ প্রায় ১৫০টির মতো পুষ্টিগুণ। ফলটি দুই হাজারেরও বেশি বছর ধরে প্রাচীন পলিনেশিয়া, চীন, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের আদিবাসীদের মধ্যে অসাধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ঔষধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। এই আধুনিক যুগেও ঔষধি গুণসম্পন্ন এই ফলের রস মানব শরীরের বিভিন্ন ধরনের উন্নতির প্রমাণ দেখিয়েছে। গৌরনদীর ননি চাষি হাবিব সরদার জানান, পাঁচ বছর আগে তিনি এ ফলের গুণাগুণের কথা শুনে মুগ্ধ হন। পরে এই ফল চাষের চেষ্টা করতে থাকেন। পরে তিনি মালয়েশিয়া থেকে পাকা ফল সংগ্রহ করেন। সেটি থেকে ৪৭টি চারা তৈরি করে রোপণ করেন। বর্তমানে ২৩টি গাছ আছে। চারা রোপণের সাড়ে তিন বছরের মাথায় এবার প্রথম সব গাছে ফল ধরেছে। একটি হারবাল কম্পানির সঙ্গে কথা হয়েছে, সব ফল তারা এখান থেকে প্রক্রিয়াজাত করে নেবে।

তিনি বলেন, ‘ফলের বিচি আমি রেখে দেব। বাণিজ্যিক চাষ করার জন্য এ বছর আমি ৫০০ গাছ দিয়ে প্লট তৈরি করছি। আমাদের দেশের আবহাওয়ায় পরিকল্পিতভাবে ননি ফল চাষ করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় সম্ভব।’

পুষ্টিবিদ ইলিয়াস বিন শওকত বলেন, ‘বিশ্বের ৩০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ননি ফল নিয়ে গবেষণা চলছে। আমাদের দেশে মালয়েশিয়ান একটি কম্পানির মরিনঝি নামে (ননি ফলের) জুস পাওয়া যায়। এর প্রচুর চাহিদাও রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ গবেষক ড. রালফ এম হেনেইনিকের মতে, ননি ফলের রসে প্রাকৃতিক অ্যালকালয়েড জেরোনিনের পাশাপাশি এক ধরনের রাসায়নিক উপাদান রয়েছে, যা বিপাকতন্ত্রে জেরোনিনে রূপান্তরিত হয়।’

আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশের অনেক হার্বস কম্পানি বিভিন্ন নামে সাইট্রিফেলিয়া বা ননি ফলের পণ্য বাজারজাত করছে। দেশে এখনো বাণিজ্যিক আবাদ শুরু হয়নি, তবে কোনো কোনো হার্বস কম্পানি নিজেদের চাহিদা মেটানোর জন্য স্বল্প পরিসরে বাগান করছে। এর কাঁচামাল ভারত ও মালয়েশিয়া থেকে আমাদের দেশে উচ্চমূল্যে আমদানি করা হয়।’

এই বিভাগের আরো খবর