counter ঠাকুরগাঁওয়ে ইটভাটার ধোঁয়ায় নষ্ট হচ্ছে জমির ধান, ইউএনও’র পরিদর্শন

রবিবার, ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ঠাকুরগাঁওয়ে ইটভাটার ধোঁয়ায় নষ্ট হচ্ছে জমির ধান, ইউএনও’র পরিদর্শন

এসএম মশিউর রহমান সরকার, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে ইটভাটার নির্গত ধোঁয়ায় দেড় শতাধিক বিঘা জমির ধান নষ্ট হওয়ার অভিযোগ করেছেন এলাকার কৃষকরা। উৎপাদিত ধান নষ্ট হয়ে ক্ষতির মুখে পরে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।

কৃষকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে শনিবার (১৬ মে) সকালে উপজেলা প্রশাসনের র্কমর্কতাগণ ঘটনাস্থল পরির্দশন করে ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়ছেন কৃষকদের।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের কাজিপাড়া এলাকায় এক প্লটে ৫শতাধিক বিঘা জমিতে ধান চাষাবাদ করেছেন ওই এলাকার কৃষকরা। আবাদি জমির আশপাশে এমজিবি, নীড় ও এসএমবি ব্রিকস্ ইটভাটার নির্গত ধোঁয়ায় সেখানে দেড় শতাধিক জমির ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করনে কৃষকেরা।

এ প্রেক্ষিতে প্রশাসনের র্কমর্কতারা ঘটনাস্থল পরির্দশন করে তদন্ত কমিটির মাধ্যমে আগামী তিন দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন কৃষি বিভাগকে। তদন্ত সাপেক্ষে যদি প্রমাণিত হয় ইটভাটার কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাহলে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুল্লাহ আল মামুন, জহরিুল ইসলাম, মকবুল হোসেন, মিজানুর রহমানসহ অনেকে জানান, গেল বছরেও আমাদের অনেকে ইটভাটার ধোঁয়ার কারণে ক্ষতির শিকার হয়েছেন। তখনও ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা ছিল কিন্তু দেয়নি। আমরা এসব ইটভাটার কারণে বার বার ক্ষতির মুখে পরছি। আমরা চাই প্রশাসন যেন এবার আমাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করে দেন। বর্তমানে এমনিতেই ধানের বাজার দর ৬’শ টাকা দরে বিক্রির জন্য আমরা হতবাক হয়ে পরেছি।

এ বিষয়ে আকচা ইউনিয়ন ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার সোমা আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করনে, এ প্লটে পুরোটাতইে ২৮ জাতরে ধান আবাদ করেছেন কৃষকরা। আমরা এ জাতের ধানটি আবাদ করতে নিষেধ করেছিলাম। তার কারণ হচ্ছে এ জাতটিতে রোগ বালাই বেশি হয়। আমরা ধারনা করছি কৃষকের যে ক্ষতি হয়েছে তা ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে। তারপরও যেহেতু তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি আরো পর্যালোচনা করে পরর্বতীতে জানাতে পারবো।
আকচা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুব্রত কুমার বর্মন জানান, কৃষকরা অভিযোগ করেছে ইটভাটার নির্গিত ধোঁয়ায় তাদের ধানের ক্ষতি হয়েছে। আর কৃষি বিভাগের লোক ধারনা করছে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে ক্ষতি হয়েছে। কৃষক কোন না কোন ভাবে ক্ষতির শিকার হয়েছে। আমি চাই তাদেরকে যেভাবেই হোক সহযোগিতা করা প্রয়োজন।

  1. এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ধান ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার আশপাশে তিনটি ইটভাটা রয়েছে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা অভিযোগ করেছেন ভাটার নির্গত ধোঁয়ায় তাদের ধান নষ্ট হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি করে দেয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি আগামী তিন দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা ও কি কারণে দেড় শতাধিক বিঘার ধান নষ্ট হলো তার প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। তার উপর নির্ভর করে কৃষকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।

এই বিভাগের আরো খবর